পোস্টগুলি

পার্টিশনের জীবনভাষ্য: প্রজন্মান্তরের খোঁজ

ছবি
তাহলে কি তাত্ত্বিক স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে বাঙালির দেশভাগ ? ১ – প্রশ্নটি উত্থাপন করেছিলেন কথাসাহিত্যিক দেবেশ রায় তাঁর রক্তমণির হাড়ে: দেশভাগের গল্প সংকলন ২ —এর সম্পাদকীয় ভূমিকায়। নিজের মতো করে প্রশ্নটির উত্তরও দিয়েছেন তিনি, কিন্তু আমাদের আলোচনায় সেই প্রশ্নটিকে আমরা আরও একবার উত্থাপন করলাম তার উত্তর নিয়ে পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে নয় বরং প্রশ্নটির প্রশ্নত্বকেই খারিজ করে দিয়ে আমরা তাকে পড়তে চাইছি একটি মন্তব্য আকারে। যে-মুহূর্তে এটিকে মন্তব্য আকারে দেখব সেই মুহূর্তেই এটি আমাদের দেশভাগ চর্চার অভিমুখ প্রসঙ্গে একটি ইঙ্গিতকে স্পষ্ট করে তুলবে।     বস্তুত একথা স্বাভাবিকভাবেই মানতে হবে যে ’৪৭-এর দেশভাগকে যখন এই মুহূর্তে, একবিংশ শতাব্দীর প্রজন্ম ফিরে দেখবে তখন তার সেই ‘দেখা’র একটা বহুমুখী তাত্ত্বিক নির্মাণ থাকবেই। কেননা এই প্রজন্মের কাছে দেশভাগ ‘প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা’ নয়; কাজেই কেবল ইতিহাস খুলে বসলেই তার অভিঘাতকে ছোঁয়া যাবে না। বরং রাজনৈতিক, সমাজতাত্ত্বিক, ধর্মীয় ইত্যাদি নানা প্রেক্ষিতে দ্বন্দ্ব-হিংসা-স্বার্থ-সমন্বয় প্রভৃতি নানা মাত্রা থেকে ‘দেশভাগ’ এবং ‘দেশভাগ চর্চা’কে দেখবে এই সময়ের প্...

কল্পনাদের মৃত্যু হয় না কখনো

ছবি
  ১৯৬২ সালের ১৭ই মার্চ। বর্তমান হরিয়ানার কার্নালে এক ভারতীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিল একটি ছোট্ট মেয়ে। ছোটো থেকে একটু একটু করে বড়ো হতে থাকা মানুষ হাজারও স্বপ্ন দেখে। কল্পনায় সেই স্বপ্নপূরণ হতে চাওয়া মানুষটির বাস্তবও যদি মিলে যায় তবে? মেয়েটিও স্বপ্ন দেখত; আকাশে উড়তে চাওয়ার স্বপ্ন, এরোপ্লেন চালানোর স্বপ্ন। মেয়েরা আবার এইসব করতে পারে নাকি? ঘর সংসারের চিরাচরিত কাঠামোয় তার পরিবার তাকে আটকে রাখেনি। বাবার হাত ধরে ছোট্ট মেয়েটি মাঝেমধ্যেই চলে যেত এলাকার একটি স্থানীয় এরোপ্লেন ক্লাবে এবং অবাক হয়ে দেখত এরোপ্লেনের আকাশছোঁয়া। বাড়ির খোলামেলা পরিবেশ সেই ছোট্ট মেয়েটিকে স্বপ্নপূরণের পথে পা বাড়াতে হয়ে উঠেছিল সিঁড়ির পদক্ষেপ। পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে এয়ারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ব্যাচেলার ডিগ্রি অর্জন করার পর আর পিছনে তাকাতে হল না। স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকার গ্রহণে জি বাংলা দায়বদ্ধতা গ্রহণের মতো নয়, একেবারে আমেরিকা থেকে ডাক পড়ল। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস থেকে এয়ারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করলেন একদিন উড়তে চাওয়ার স্বপ্ন দেখা হরিয়ানার সেই ভারতীয় মেয়েটি, সালট...

চোদ্দ ভূতের আসরে

ছবি
  কথায় আছে বারো ভূতের কারবার, কিন্তু দিনটা যখন চতুর্দশী, তখন চোদ্দ পুরুষের আবির্ভাব ঠ্যাকায় কে। কাজেই চোদ্দ ভূতের আসর বসাবার এই হল দিন। আজ ভূত চতুর্দশী। ভূতেদের জন্য বেজায় শুভ দিন(!) কিন্তু এই চতুর্দশীতে কি সত্যিই ভূতেরা আসে? ভূত চতুর্দশী কী ভাবে পালন করতে হয়, তা বাঙালিকে শেখানো নিষ্প্রয়োজন। এমন দিনে যে তেঁনাদের আনাগোনা বেলাগাম হয়, সেও কোনও নতুন কথা নয়। অতএব, ঘরের নানা স্থানে চোদ্দটি প্রদীপ দেওয়া, চোদ্দটি শাক খাওয়া, ছেলেদের কপালের ডান দিকে আর মেয়েদের কপালের বাঁদিকে ঘি-তুলসীপাতা-কাজল ধারণের কথা বিশদে বলার কোনো মানে হয় না। এসব সকলেরই জানা।   কিন্তু ভূত কি সত্যিই আছে? নাকি নেই? আদি অনন্তকাল ধরে ভূত বিষয়ক যাবতীয় চর্চার মৌলিক প্রশ্ন এটিই। আছের দিকেই পাল্লা ভারী। বরাবর। আছেই তো। আছেন তাঁরা, তেঁনারা। কিন্তু এমনই আশ্চর্য এই ‘থাকার’ অর্থ যে ‘থাকা আর না-থাকা’র মাঝে প্রায়শই গুলিয়ে যায়, ‘না-থাকা’ই হয়ে ওঠে ‘থাকা’। কে যেন আছে, কী যেন ছিল ওখানে, ওই যে অন্ধকারে, কার একটা শব্দ, কীসের একটা গন্ধ, কী যেন চলে গেল হঠাৎ, এমন অভিজ্ঞতা আমাদের সকলের জীবনেই রয়েছে। যেমন এই লেখাটি পড়তে পড়তেই আপনি যদি...

প্রথমা আনন্দী

ছবি
  ১৮৮৬ সালে পেনসিলভেনিয়া মেডিকেল কলেজে পাঠরত আন্নদীবাই যোশী ‘আমি জানি, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে কেমন করে আপনি বিদেশে গিয়েছেন এবং অধ্যবসায়ের সঙ্গে জ্ঞানার্জন করছেন। আমাদের দেশে আধুনিক যুগে আপনি এক মহান নারী। জানতে পারলাম, আপনার এখন অর্থের প্রয়োজন। আমি এক পত্রিকার সম্পাদক। আয় বেশি নয়। তবু আপনাকে ১০০ টাকা পাঠাতে চাই।’ চিঠিটি লিখছেন ‘কেশরী’ পত্রিকার সম্পাদক বাল গঙ্গাধর তিলক, আর যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে এই চিঠি তাঁর নাম আনন্দীবাই জোশি। ভারতের প্রথম মহিলা ডাক্তার তিনি। বিয়ের আগে তাঁর নাম ছিল যমুনা। ১৮৬৫ সালে মহারাষ্ট্রের ঠানে জেলার কল্যাণে তাঁর জন্ম। মাত্র ন’বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয় ডাক বিভাগের কর্মী, বছর ঊনত্রিশের গোপাল রাওয়ের সঙ্গে। তিনিই যমুনার নাম দিয়েছিলেন ‘আনন্দী’। তৎকালীন সময়ের নিরিখে আনন্দীর বিয়ে কিছুটা হলেও দেরিতেই হয়েছিল। আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, মেয়ে হলেও আনন্দী অল্পস্বল্প মরাঠি পড়তে পারতেন, অক্ষর জ্ঞান তাঁর ছিল। সেই সময়ের নিরিখে যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ; কেননা তখন বাংলার বুকে নবজাগরণের ঢেউয়ে স্ত্রী শিক্ষার যৎসামান্য প্রসার ঘটলেও, সর্বভারতীয় স্তরে, বিশেষ করে পশ্চিম বা উত্তর ভারত...