পোস্টগুলি

সুশোভন প্রামাণিক লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আমার শহর ইয়ার শ্যাম

ছবি
[মান্টোর স্মৃতিচারণ এগোতে থাকে, অভিনেতা শ্যামের সঙ্গে বন্ধুত্বের পরতগুলো উঠে আসে তাঁর লেখায়। নানা কথাপ্রসঙ্গের পর একটা শব্দে এসে থামেন মান্টো,  হিপটুললহা । তারপর...] পর্ব ২ যেভাবেই হোক ‘হিপটুললহা’ শব্দখানা একটা মানে জানাতে পেরেছে যে আমি বলতে চাইছি যে দৃশ্যের মধ্যে বর্ণনা বেশি হয়ে গেছে, ফলে দৃশ্যের জোর কমে গেছে। মিটিং এ এর পরে, হসরত উপস্থিত ছিল, তার ওই দৃশ্যে বেশ কিছু ক্রিয়াকলাপ করতে হবে। আমাকে যখন আমার মতামত জানতে চাওয়া হল, আমি আবার বললাম, এইবারে একেবারে সচেতন হয়েই বললাম, ‘হসরত, দোস্ত, এইভাবে চাল খেললে হবেনা। অন্যকিছু করো যেটা বেশ ‘হিপটুললহা’ মানে ‘হিপটুললহা’ গোছের কিছু একটা করো দোস্ত’। যখন আমি দ্বিতীয় বার বেশ জোর দিয়ে ‘হিপটুললহা’ শব্দটা বললাম, আমি চারিদিকে সবার প্রতিক্রিয়া দেখছিলাম, এবং দেখে বেশ উপভোগ করলাম যে শব্দটা সবাই বেশ গ্রহণ করেছে। এবং বাকি মিটিং জুড়ে সবাই এই শব্দটাকে নানাভাবে ব্যবহার করতে লাগলো, যেমনঃ ‘এই জিনিসের কোনও ‘হিপটুললহিটি’ নেই, অথবা ‘এটাকে আরও  ‘হিপটুললহাজাইসড’ করতে হবে। একটা সময়ে অশোক আমাকে বেশ চেপে ধরে বলল ‘এই মান্টো এই ‘হিপটুললহা’ শব্দের মানে কি হে! কোন ভ...

আমার শহর ইয়ার শ্যাম

ছবি
[সাদাত হাসান মান্টো (سعادت حسن منٹو‎‎‎), পরিচিত এবং বিতর্কিতও খানিক। আজও তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া সিনেমা বিভিন্ন হলে মুক্তি পায় না, বাণিজ্যিক সফলতা তো দূরস্থ। বারবার বিভিন্ন লেখার জন্য তাঁকে পড়তে হয়েছে অশ্লীলতার দায়ে। পার্টিশনের অনিবার্যতায় ছিন্নমূল এই মানুষটি আমরণ বম্বের স্মৃতিকে ভুলতে পারেননি। মান্টোর এক অভিন্ন-হৃদয় বন্ধু ছিলেন অভিনেতা সুন্দর শ্যাম চাড্ডা। বম্বে টকিজের সেই সোনালি দিনগুলো কেমন ছিল? শ্যামের মৃত্যুর খবর মান্টোকে অবসাদগ্রস্ত করে, তার লেখায় উঠে আসে চলচ্চিত্র জগতের নানান কিসিমের স্মৃতিচারণ। সেই রঙিন স্মৃতি নিয়েই আজ থেকে শুরু হল ব্লগের নতুন ধারাবাহিক, 'আমার শহর ইয়ার শ্যাম'। আজ তার প্রথম কিস্তি...] পর্ব ১ তারিখটা ছিল তেইশ কিংবা চব্বিশে এপ্রিল। আমার ঠিক মনে নেই। আমি লাহোরের এক মানসিক হাসপাতালে, বিস্মৃতির কামরা থেকে স্মৃতিগুলোকে স্থিতধি করছিলাম, সেখানেই এক সংবাদপত্রের পাতায় আমি প্রথম খবরটা পড়ি, শ্যাম আর নেই। আমি তখন এক অদ্ভুত অবস্থায় চলে গেছিলাম, সচেতন আর সম্পূর্ণ অচেতন এই দুই অবস্থার মধ্যে একেবারে নিলম্বিত হয়ে রয়ে গেছিলাম। এটা স্থির নির্ণয় করাও যথেষ্ট কঠিন হয়ে ...

সাহিত্যের হরিচরণ, হরিচরণের সাহিত্য

ছবি
কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের পরিচয় তাঁদের অনির্বাণ কর্ম। কর্মের প্রজ্জ্বলিত শিখা তাঁদেরকে চিরকাল তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে, সুখ-স্বাছন্দ্য-স্বস্তি নয়, বরং অবিরাম-অবিরল কর্মের তাড়না তাঁদেরকে আজীবন কখনও স্বস্তির বিশ্রাম অথবা আলস্যের নিদ্রায় নিমগ্ন করেনি। খুব নিঃশব্দে, প্রায় চুপিচুপি পেরিয়ে গেল এমনই এক কর্মযোগীর জন্মের একশো তিপ্পান্নতম বর্ষ। তিনি আভিধানিক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিচরণ তাঁর অভিধান রচনা করেন (১৯৩২-৫১ পর্যন্ত সময়কালে), অভিধান না বলে তিনি ‘শব্দকোষ’ নামকরন করেছিলেন, ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’-এর পূর্বে উইলিয়ম কেরির দুই খণ্ডে বাংলা অভিধান রয়েছে, যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি’র বাঙ্গালা শব্দ কোষ (১৯১৩), জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস’-এর বাঙ্গালা ভাষার অভিধান (১৯১৭) কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন বঙ্গীয় শব্দকোষ অভিধান হিসেবে অন্য মাত্রা পায়? আভিধানিকের অভিধান রচনার পেছনে যে প্রেক্ষাপট এবং ঘটনা পরম্পরা রয়েছে সেদিকে একটু নজর দেওয়া যাক। যশাইকাটি গ্রামে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা। ১৮৬৭ সালের ২৩শে জুন, তাঁর মাতুলালয় রামনারায়ণপুরে তাঁর জন্ম। হরিচরণের পিতা বা পিতামহ কেউই সে অর্থে পণ্ডিত ছিলেন না...

কাঁহা গেলে তোমা পাই

ছবি
রাতে ঘুমানোর অভ্যেস নেই বহুদিন। গোটা লকডাউন পর্বে মাছের চোখ হয়ে জেগে ছিলাম। কপাল ভালো থাকলে সকালে, না হলে দুপুরে বিকেলে সন্ধ্যেবেলা ঘোমাতে যাই। ক্লান্তিবশত কাল ঘুমিয়ে পড়েছিলাম রাতে। সকালে ঘুম ভাঙলে গান শুনতে শুনতে কিছু একটা বইয়ের কয়েক পাতা ওল্টাই।  তাকের ওপর রাখা কাঁহা গেলে তোমা পাই বইটা চোখে পড়লো। কাকতালীয়ভাবে ফেসবুকে কেউ একজন ক্ষিতীশচন্দ্র মজুমদারের আঁকা ছবি শেয়ার করেছিলেন। সকালেই  বইটা একটু পড়তে ইচ্ছে হল, নতুন কিছু নয় বরং পাঁচ বছর আগে এই বই পড়ে যে পোস্ট লিখেছিলাম সেটা একটু কেটে-ছেঁটে বলি। প্রাচী প্রকাশনী-র একটি ছোটো বই সেদিন কলেজ স্ট্রীটে আড্ডার ফাঁকে, টুলের ওপর উল্টে-পাল্টে দেখছিলাম, কাছে টাকা ছিল যৎসামান্য। দেখলাম, বইটির ছাপা এবং কাগজ খুবই মাঝারি বা খারাপের দিকেই, পড়া যায় এইটুকুই। বইটির প্রচ্ছদ এবং বাঁধাই তথৈবচ, বইটি বিষয়গুণে ভালো লেগে গেছিল, কিনে ফেললাম। মাত্র  আশি টাকা দাম। কাঁহা গেলে তোমা পাই লেখক ড. জয়দেব মুখোপাধ্যায়। বইটা  পড়ার আগেই বইয়ের দোকানী আমাকে এই লেখক-কে নিয়ে একটি দু-লাইনের গল্প বললেন, যে এই বই লেখার অব্যবহিত পরেই লেখক গুমখুন হয়ে যান। আশ্চর্য।...