পোস্টগুলি

চোদ্দ ভূতের আসরে

ছবি
  কথায় আছে বারো ভূতের কারবার, কিন্তু দিনটা যখন চতুর্দশী, তখন চোদ্দ পুরুষের আবির্ভাব ঠ্যাকায় কে। কাজেই চোদ্দ ভূতের আসর বসাবার এই হল দিন। আজ ভূত চতুর্দশী। ভূতেদের জন্য বেজায় শুভ দিন(!) কিন্তু এই চতুর্দশীতে কি সত্যিই ভূতেরা আসে? ভূত চতুর্দশী কী ভাবে পালন করতে হয়, তা বাঙালিকে শেখানো নিষ্প্রয়োজন। এমন দিনে যে তেঁনাদের আনাগোনা বেলাগাম হয়, সেও কোনও নতুন কথা নয়। অতএব, ঘরের নানা স্থানে চোদ্দটি প্রদীপ দেওয়া, চোদ্দটি শাক খাওয়া, ছেলেদের কপালের ডান দিকে আর মেয়েদের কপালের বাঁদিকে ঘি-তুলসীপাতা-কাজল ধারণের কথা বিশদে বলার কোনো মানে হয় না। এসব সকলেরই জানা।   কিন্তু ভূত কি সত্যিই আছে? নাকি নেই? আদি অনন্তকাল ধরে ভূত বিষয়ক যাবতীয় চর্চার মৌলিক প্রশ্ন এটিই। আছের দিকেই পাল্লা ভারী। বরাবর। আছেই তো। আছেন তাঁরা, তেঁনারা। কিন্তু এমনই আশ্চর্য এই ‘থাকার’ অর্থ যে ‘থাকা আর না-থাকা’র মাঝে প্রায়শই গুলিয়ে যায়, ‘না-থাকা’ই হয়ে ওঠে ‘থাকা’। কে যেন আছে, কী যেন ছিল ওখানে, ওই যে অন্ধকারে, কার একটা শব্দ, কীসের একটা গন্ধ, কী যেন চলে গেল হঠাৎ, এমন অভিজ্ঞতা আমাদের সকলের জীবনেই রয়েছে। যেমন এই লেখাটি পড়তে পড়তেই আপনি যদি...

প্রথমা আনন্দী

ছবি
  ১৮৮৬ সালে পেনসিলভেনিয়া মেডিকেল কলেজে পাঠরত আন্নদীবাই যোশী ‘আমি জানি, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে কেমন করে আপনি বিদেশে গিয়েছেন এবং অধ্যবসায়ের সঙ্গে জ্ঞানার্জন করছেন। আমাদের দেশে আধুনিক যুগে আপনি এক মহান নারী। জানতে পারলাম, আপনার এখন অর্থের প্রয়োজন। আমি এক পত্রিকার সম্পাদক। আয় বেশি নয়। তবু আপনাকে ১০০ টাকা পাঠাতে চাই।’ চিঠিটি লিখছেন ‘কেশরী’ পত্রিকার সম্পাদক বাল গঙ্গাধর তিলক, আর যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে এই চিঠি তাঁর নাম আনন্দীবাই জোশি। ভারতের প্রথম মহিলা ডাক্তার তিনি। বিয়ের আগে তাঁর নাম ছিল যমুনা। ১৮৬৫ সালে মহারাষ্ট্রের ঠানে জেলার কল্যাণে তাঁর জন্ম। মাত্র ন’বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয় ডাক বিভাগের কর্মী, বছর ঊনত্রিশের গোপাল রাওয়ের সঙ্গে। তিনিই যমুনার নাম দিয়েছিলেন ‘আনন্দী’। তৎকালীন সময়ের নিরিখে আনন্দীর বিয়ে কিছুটা হলেও দেরিতেই হয়েছিল। আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, মেয়ে হলেও আনন্দী অল্পস্বল্প মরাঠি পড়তে পারতেন, অক্ষর জ্ঞান তাঁর ছিল। সেই সময়ের নিরিখে যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ; কেননা তখন বাংলার বুকে নবজাগরণের ঢেউয়ে স্ত্রী শিক্ষার যৎসামান্য প্রসার ঘটলেও, সর্বভারতীয় স্তরে, বিশেষ করে পশ্চিম বা উত্তর ভারত...

শিক্ষক দিবস, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের নকল ও এক হতভাগ্য বাঙালি

ছবি
  ১৯৯৫ সালে UNESCO-র ঘোষণায় আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয় ৫ই অক্টোবর দিনটিকে। ভারতবর্ষে যদিও এই দিনের পরিবর্তে ৫ই সেপ্টেম্বরকে বেছে নেওয়া হয়েছে শিক্ষক দিবসের দিন হিসেবে, উপলক্ষ্য ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের জন্মদিন। ভারতবর্ষে ১৯৬২ সালে এই দিনটি শিক্ষক দিবসের মর্যাদা পায়। ওই বছরেই রাধাকৃষ্ণান হন ভারতের রাষ্ট্রপতি। গুরুপূর্ণিমার দিনে শিক্ষাগুরুকে সম্মান প্রদর্শনের রীতি যদিও ভারতীয় সংস্কৃতিতে বহু প্রাচীন কিন্তু আজ সে আলোচনা থাক; আচ্ছা যেই মানুষটির জন্মদিন শিক্ষকদের সম্মান প্রদর্শনের মধ্যে দিয়ে আমরা পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করি, হঠাৎ যদি জানতে পারি তিনিই তাঁর ছাত্রতুল্য এক গবেষকের গবেষণা থেকে হুবহু নকল করে বই লিখেছিলেন! আমাদের গড়ে তোলা শ্রদ্ধার জগতে কি সামান্য চিড় ধরবে তাহলে? ধরা পড়ে যাওয়ার পর বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও প্লেজিয়ারিজমের দায়ে তাঁকে আদালতের কাঠগড়ায় উঠতে হয়! অবাক লাগছে? ভাবছেন এও কি সম্ভব? অথচ ঠিক এমনটাই ঘটেছিল আজ থেকে অনেক বছর আগে। ভারত তখনও স্বাধীন হয়নি। ১৯২৯ সাল। মিরাট কলেজের দর্শনের অধ্যাপক যদুনাথ সিংহ এই ...

এসব সকালের নাম মহালয়া সকাল

ছবি
শরৎকাল নিয়ে আমার একটি লেখা। অনেক খারাপের পরেও একটা শরৎ আসছে। এ লেখাটা কিছুদিন আগের। এটুকুই বলার, এদ্দিন পর খুঁজে পেয়ে লেখাটা পড়ে নিজেই বিস্মিত হলাম। আজও জানা হল না, মনের কোন গভীরের এলক্যামিতে এসব লেখা তৈরি হয়? এবং কীভাবে তৈরি হয়! .............. নীল দিগন্তে ফুলের আগুন লাগবে। শিউলি আর ছাতিমের গন্ধে বারান্দা ভরে যাবে। খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যাবে আমার। কেমন নেশা নেশা। পরলোক পরলোক। তেনারা ঘুরে বেরাচ্ছেন বাতাসে। আমি মানুষ দেখতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ব। ভাবব, অত আগে রবি ঠাকুর কীভাবে লিখলেন, ‘‘ নিতে চাও বলে ফিরাও আমায়! ’’ একটা জাতি জেগে ওঠে সংগীতে। ঘুমায় সংগীতে। জন্মায়, প্রেম-বিয়ে করে, ডিপ্রেশন আটকায়, মারা যায় সংগীতে। মহালয়ার মত এক্সপেরিয়েনশিয়াল কাজ দুনিয়ার কোন জাতির আছে? হাসি-কান্না একাকার হয়ে যায়। চাবুক। শিল্পের চূড়ান্ত অবস্থান। যা মানুষেরও অধরা। অধরা মাধুরী হয়তো বা! দাদুর সাথে আজ আবার পেনশন তুলতে যাব। গড়িয়াহাটের সেন্ট্রাল ব্যাংকে। তারপর জলযোগ থেকে চারটে চকলেট কেক কিনে ফিরব। মামাবাড়ির পাশের লেবুগাছে পুজোর রোদ এসে পড়বে। হাতপাখা আর ছুটিছুটির দিন। দাদু গুনেগুনে দুটো হজমলা দেবে অনেক বায়নার পর। ঢাকাটা এমন ...